Hindusthan Samachar
Banner 2 रविवार, अप्रैल 21, 2019 | समय 08:17 Hrs(IST) Sonali Sonali Sonali Singh Bisht

হেফাজতে ইসলাম কাদিয়ানিদের অমুসলমান ঘোষণার দাবি জানিয়েছে

By HindusthanSamachar | Publish Date: Apr 17 2019 6:56PM
হেফাজতে ইসলাম কাদিয়ানিদের অমুসলমান ঘোষণার দাবি জানিয়েছে
ঢাকা, ১৭ এপ্রিল (হি. স.) : হেফাজতে ইসলামের আমীর ও আন্তর্জাতিক মজলিসে তাহাফফুজে খতমে নবুওয়াত বাংলাদেশের সভাপতি আল্লামা শাহ আহমদ শফী কাদিয়ানী সম্প্রদায়কে রাষ্ট্রীয়ভাবে অমুসলমান ঘোষণার জন্য সরকারের কাছে দাবি জানিয়ে বলেছেন, কাদিয়ানীরা মুসলমান নয়। তারা অমুসলমান। তাদেরকে যারা মুসলমান মনে করবে তারাও অমুসলমান হয়ে যাবে। কারণ তারা আমাদের নবীকে (সা.) শেষ নবী মানে না। সেজন্য তারা কাফের। যারা এদেরকে কাফের বলবে না তারাও কাফের। সৌদি আরব, পাকিস্তানসহ অন্যান্য রাষ্ট্রে কাদিয়ানীদের অমুসলিম ঘোষণা করা হয়েছে। শেখ হাসিনা সরকারও কাদিয়ানীদেরকে অমুসলমান ঘোষণা করবে বলে প্রত্যাশা করছি। যারা বিভিন্ন লোভে কাদিয়ানী হয়ে গেছে তাদেরকে সবরকম চেষ্টা চালিয়ে ইসলামের পথে ফিরিয়ে আনতে হবে। তিনি বলেন, কাদিয়ানীরা কাফের হওয়ায় তাদের মেয়েকে বিবাহ করা যাবে না। কাদিয়ানীদের ছেলের সঙ্গে মেয়ের বিয়েও দেওয়া যাবে না। মঙ্গলবার দুপুরে পঞ্চগড়ে সম্মিলিত খতমে নবুওয়াতের সম্মেলনে লাখো মুসল্লির উপস্থিতিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। শফীর মোনাজাত পরিচালনার আগে তার পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন তার ছেলে কওমি শিক্ষা বোর্ডের মহা পরীক্ষক মাওলানা আনাস মাদানী। সম্মেলনে খতমে নবুওয়াতের ঘোষণাপত্র পাঠ করেন সম্মিলিত খতমে নবুওয়াত সংরক্ষণ পরিষদের পঞ্চগড় জেলা কমিটির প্রধান উপদেষ্টা ড. আব্দুর রহমান। লিখিত বক্তব্যে বলেন, "গোলাম আহমদ কাদিয়ানী নামে একজন ব্যক্তি নিজেকে নবী দাবি করেছে, সে কাফের। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কাদিয়ানীদের অমুসলমান ঘোষণা করা হয়েছে। বাংলাদেশেও ১৯৯৩ সালে হাইকোর্টের রায়ে এরা কাফের সাব্যস্ত হয়েছে। অবিলম্বে এই রায়কে কার্যকর করতে হবে। মুসলমান পরিচয়ে কাদিয়ানীরা এই দেশে বসবাস করতে পারবে না। এই দেশে কাদিয়ানীদের রাষ্ট্রীয়ভাবে অমুসলিম ঘোষণা করে সংখ্যালঘু হিসেবে থাকতে দেওয়া হোক। কাদিয়ানীরা ছাড়াও কয়েকটি সম্প্রদায় ইসলামকে ভুলভাবে উপস্থাপন করছে। এদের মধ্যে আহমদ রেজা খান দেহলভির রেযাখানি ফেরকা, আবুল আলা মওদুদির মওদুদি মতবাদ, লা মাযহাবী ও আহলে হাদিসের বিশ্বাসীরা, তাবলীগ জামাতের সাদপন্থি (ভারতের) মতবাদ ও খ্রিস্টান মিশনারিদের অন্তর্ভূক্তরা ইসলামের নামে ধোঁকা দিচ্ছে।" পঞ্চগড় জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামি লিগের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার সাদাত সম্রাটের সভাপতিত্বে সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন খতমে নবুওয়াত মারকাযের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক মাওলানা মুফতি শুয়াইব ইব্রাহিম, ইন্টারন্যাশনাল খতমে নবুওয়াত মুভমেন্ট বাংলাদেশের আমীর মাহমুদুল হাসান মমতাজীসহ ইসলামি নেতৃবৃন্দ। উল্লেখ্য ২০১৩ সালে হেফাজতে ইসলাম সরকারবিরোধী আন্দোলনে নেমে ঢাকায় অবস্থান থেকে ১৩ দফা দাবি ঘোষণা করেছিল। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে, সংবিধানে ‘আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস’ পুনঃস্থাপন এবং কোরআন-সুন্নাহবিরোধী সব আইন বাতিল করা; আল্লাহ্, রাসুল (সা.) ও ইসলাম ধর্মের অবমাননা এবং মুসলমানদের বিরুদ্ধে কুৎসা রোধে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদন্ডের বিধান রেখে জাতীয় সংসদে আইন পাস; শাহবাগে মুক্তমনা আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারী স্বঘোষিত নাস্তিক-মুরতাদ এবং প্রিয় নবী (সা.)-এর শানে জঘন্য কুৎসা রটনাকারী ব্লগার ও ইসলামবিদ্বেষীদের সব অপপ্রচার বন্ধসহ কঠোর শাস্তিদানের ব্যবস্থা করা; ব্যক্তি ও বাকস্বাধীনতার নামে সব বেহায়াপনা, অনাচার, ব্যভিচার, প্রকাশ্যে নারী-পুরুষের অবাধ বিচরণ, মোমবাতি প্রজ্বালনসহ সব বিজাতীয় সংস্কৃতির অনুপ্রবেশ বন্ধ করা; ইসলামবিরোধী নারীনীতি, ধর্মহীন শিক্ষানীতি বাতিল করে শিক্ষার প্রাথমিক স্তর থেকে উচ্চমাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত ইসলাম ধর্মীয় শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করা; সরকারিভাবে কাদিয়ানিদের অমুসলিম ঘোষণা এবং তাদের প্রচারণা ও ষড়যন্ত্রমূলক সব অপতৎপরতা বন্ধ করা; মসজিদের নগরী ঢাকাকে মূর্তির নগরে রূপান্তর এবং দেশব্যাপী রাস্তার মোড়ে ও কলেজ ইউনিভার্সিটিতে ভাস্কর্যের নামে মূর্তি স্থাপন বন্ধ করা; জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমসহ দেশের সব মসজিদে মুসল্লিদের নির্বিঘ্নে নামাজ আদায়ে বাধাবিপত্তি ও প্রতিবন্ধকতা অপসারণ এবং ওয়াজ-নসিহত ও ধর্মীয় কার্যকলাপে বাধাদান বন্ধ করা; রেডিও-টেলিভিশনসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে দাঁড়ি-টুপি ও ইসলামি কৃষ্টি-কালচার নিয়ে হাসিঠাট্টা এবং নাটক-সিনেমায় নেতিবাচক চরিত্রে ধর্মীয় লেবাস-পোশাক পরিয়ে অভিনয়ের মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মের মনে ইসলামের প্রতি বিদ্বেষমূলক মনোভাব সৃষ্টির অপপ্রয়াস বন্ধ করা; পার্বত্য চট্টগ্রামসহ দেশব্যাপী ইসলামবিরোধী কর্মকান্ডে জড়িত এনজিও এবং খ্রিস্টান মিশনারিগুলোর ধর্মান্তকরণসহ সব অপতৎপরতা বন্ধ করা; রাসুলপ্রেমিক প্রতিবাদী আলেম- ওলামা, মাদ্রাসার ছাত্র ও তৌহিদি জনতার ওপর হামলা, দমন-পীড়ন, নির্বিচার গুলিবর্ষণ এবং গণহত্যা বন্ধ করা; সারা দেশের কওমি মাদ্রাসার ছাত্র-শিক্ষক, ওলামা-মাশায়েখ ও মসজিদের ইমাম-খতিবকে হুমকি-ধমকি, ভয়ভীতি দানসহ তাদের বিরুদ্ধে সব ষড়যন্ত্র বন্ধ করা এবং অবিলম্বে গ্রেপ্তারকৃত সব আলেম-ওলামা, মাদ্রাসাছাত্র ও তৌহিদি জনতাকে মুক্তিদান, দায়ের করা সব মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার এবং আহত ও নিহত ব্যক্তিদের ক্ষতিপূরণসহ দুষ্কৃতকারীদের বিচারের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি দান। হিন্দুস্থান সমাচার/ বাসুদেব/ শ্রেয়সী/ সঞ্জয়
लोकप्रिय खबरें
फोटो और वीडियो गैलरी
image