Hindusthan Samachar
Banner 2 शुक्रवार, नवम्बर 16, 2018 | समय 23:11 Hrs(IST) Sonali Sonali Sonali Singh Bisht

শব্দবাজি ফাটানোর প্রতিবাদ করায় আক্রান্ত ক্যানসারে আক্রান্ত রোগী

By HindusthanSamachar | Publish Date: Nov 10 2018 8:00PM
শব্দবাজি ফাটানোর প্রতিবাদ করায় আক্রান্ত ক্যানসারে আক্রান্ত রোগী
কলকাতা, ১০ নভেম্বর (হি. স.): আইনি নির্দেশিকা সার! মুখ্যমন্ত্রীর আর্জিও মান্যতা পেল না| শব্দবাজি ফাটানোর প্রতিবাদ করায় আক্রান্ত হলেন ক্যানসারে আক্রান্ত এক রোগী। একদল যুবক বাড়িতে ঢুকে তাণ্ডব চালানোর পর, তাঁকে খাট থেকে লাথি মেরে ফেলে দেয় বলে অভিযোগ। এমনকি, মারা হয়েছে তাঁর দুই ছেলেকেও। এই তাণ্ডবের পরেও মাঝরাত পর্যন্ত বাঁশদ্রোণী এলাকার প্রফুল্লপার্কে শব্দবাজির তাণ্ডব চালিয়েছেন অভিযুক্ত ওই যুবকেরা।বিষয়টি নিয়ে আদালতে যেতে চান পরিবেশবাদী ‘সবুজ মঞ্চ’-র আহ্বায়ক নব দত্ত| শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টায় বাঁশদ্রোণীর প্রফুল্লপার্কের পুকুরে কালীপুজোর ভাসান চলছিল। সেখানে একদল যুবক দেদার বাজি ফাটাচ্ছিলেন। বাজির আওয়াজে আশপাশের বাড়ির লোকেরা অতিষ্ঠ হয়ে ওঠেন। ওই পুকুরের পাশেই ক্যানসারে আক্রান্ত সন্দীপ চট্টোপাধ্যায়ের বাড়ি। তাঁর বাড়িতেও কালীপুজো হয়েছিল। প্রতিমা ভাসান হয়ে গেলেও, প্যান্ডেল খোলা হয়নি। পুকুরে যে ভাসান হচ্ছিল, সেখানকার বাজির আগুনের ফুলকি আচমকাই সন্দীপবাবুর বাড়ির প্যান্ডেলে এসে পড়ে আগুন ধরে যায়।পরিবারের সদস্যরা জানান, “কোনও রকমে জল ঢেলে আগুন নিভিয়ে দিয়ে ঘটনার প্রতিবাদ করি। যুবকদের বাজি ফাটাতে নিষেধ করতেই রেগে যান ওই যুবকেরা। যুবকেরা আমাদের বলেন, “বেশ করেছি। দেখবি।” অভিযোগ, এর পরেই কিছু যুবক ঘরে ঢুকে আসে। লাথি মেরে ফেলে দেওয়া হয় সন্দীপবাবুকে। তাঁর স্ত্রীর অভিযোগ, “এখনও শ্বশুরমশাই বেঁচে রয়েছেন। আশি বছর বয়স। শব্দবাজির তাণ্ডবে তিনি থাকতে পারছিলেন না। আমার স্বামী ক্যানসারে আক্রান্ত। ওরা গালিগালাজ থেকে শুরু করে মারধর করতে ছাড়ল না! আমার বড় ছেলে শুভম বাধা দিতে গেলে, তাকেও মারা হয়। পাড়ার লোকজন চলে আসায় আমরা বেঁচে গিয়েছি। প্রত্যেকেই মত্ত অবস্থায় ছিল। এখন ভয়ে আতঙ্কে রয়েছি। থানায় অভিযোগও জানিয়েছি।” ওই যুবকদের দলে এক সিভিক ভলান্টিয়ারও ছিলেন বলে স্থানীয় সূত্রে খবর। ওই ঘটনার পর থানায় অভিযোগ দায়ের হয়েছে। কিন্তু কেউ গ্রেফতার হয়নি। পুলিশ জানিয়েছে, হামলাকারীদের চিহ্নিতকরণের চেষ্টা চলছে। নব দত্ত ‘হিন্দুস্থান সমাচার’কে বলেন, “ঘটনাটা যেমন দুঃখের, তেমনই লজ্জাকর| আমরা প্রায় এক যুগ ধরে শব্দবাজির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে জনমত তৈরী করার চেষ্টা করছি| সুপ্রিম করত পর্যন্ত এ ব্যাপারে রায় দিয়েছে| মুখ্যমন্ত্রী প্রকাশ্যে আবেদন করেছেন সেই রায়কে মান্যতা দিতে| তা সত্বেও কলকাতার মত শহরেই যদি এ রকম হয়, কিছু বলার থাকে না| আমরা চেষ্টা করছি নির্যাতিত পরিবারকে নিয়ে আদালতের সুবিচার চাওয়ার|” উত্তর কলকাতায় একটি নামী কালীপুজোর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রী প্রকাশ্যেই আবেদন করেন, “দেখবেন, আপনাদের আনন্দ যেন অপরের নিরানন্দের কারণ না হয়|” চট্টোপাধ্যায় পরিবারেরর এই হেনস্থা হওয়ার ব্যাপারে পুলিস-প্রশাসন কতটা কঠোর হয়, সেটাই দেখার| হিন্দুস্থান সমাচার/ অশোক/ সঞ্জয়
image