Hindusthan Samachar
Banner 2 सोमवार, नवम्बर 19, 2018 | समय 15:29 Hrs(IST) Sonali Sonali Sonali Singh Bisht

( লিড) রাত পোহালের রথযাত্রা, চূড়ান্ত প্রস্তুতি পশ্চিমবঙ্গে ঐতিহ্যবাহী ক্ষেত্রগুলিতে

By HindusthanSamachar | Publish Date: Jul 13 2018 10:12PM
( লিড) রাত পোহালের রথযাত্রা,  চূড়ান্ত প্রস্তুতি পশ্চিমবঙ্গে ঐতিহ্যবাহী ক্ষেত্রগুলিতে
কলকাতা, ১৩ জুলাই (হি.স.) : রাত পোহালের রথযাত্রা | রথযাত্রা উপলক্ষ্যে চূড়ান্ত প্রস্তুতি চলছে পশ্চিমবঙ্গে | রাত পোহালেই শনিবার রথযাত্রার উত্সবে মেতে উঠবে রাজ্যের বৃহত্তম মাহেশে, মায়াপুরে ইসকন ও কোচবিহারের মদনমোহন সহ রাজ্যের ছোট বড় হাজার হাজার রথ | আগামীকাল প্রথা মেনে মাসির বাড়ি যাবেন জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রা | তবে প্রথা মেনে একদিন আগেই রথযাত্রায় মেতেছে বর্ধমান | শুক্রবার বিকালে টান হল রাজবাড়ির ঐতিহাসিক ২৩ ফুট লম্বা, ১৩ ফুট চওড়া রথ। আগামীকাল রথযাত্রার আগে আজ শুক্রবার বারাকপুর গঙ্গোত্রীপাড়া জগন্নাথ মন্দির প্রাঙ্গণ থেকে পথশিশুদের হাতে ছোট ছোট রঙিন রথ তুলে দিলেন স্থানীয় তৃণমূল নেতা সম্রাট তপাদার৷ রথযাত্রা উপলক্ষ্যে অতিরিক্ত ট্রেন চালাবে পূর্ব রেল | এবছর ৬২২ বছরে পদার্পণ করতে চলেছে মাহেশের রথযাত্রা। তার আগে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি চলছে জোরকদমে। পুরীর জগন্নাথের রথযাত্রার পর দেশের দ্বিতীয় প্রাচীন রথযাত্রা হল শ্রীরামপুরের মাহেশের রথযাত্রা। আগে এই রথ ছিল সম্পূর্ণ কাঠের। ১৩২ বছর আগে উচ্চতা ৫০ ফুট, ওজন ১২৫ টন। ১২টি লোহার চাকা দিয়ে বর্তমান রথটি তৈরি করে দেন শ্যামবাজারের বসু পরিবার । তিন ধাপের ৯ চূড়া বিশিষ্ট এই রথ কোনও যান্ত্রিক ব্যবস্থা ছাড়াই ম্যানিলা দড়ি দিয়ে টেনে নিয়ে যাওয়া হয়। শ্রীচৈতন্য, রামকৃষ্ণ ও রবীন্দ্রনাথ সহ বহু বিশিষ্ট ব্যক্তি শ্রীরামপুর এসেছেন মাহেশের রথ দেখতে। বহু ইতিহাসেরও সাক্ষী হয়ে আছে এই রথের মেলা। বিগত ৭৪ সাল থেকে মায়াপুরে ইসকনের রথযাত্রার শুভ সূচনা হয়। সেই রথ আজ এলাকাবাসীর সহযোগিতায় ব্যাপকতা লাভ করেছে। ইসকনের দাবি পুরীর এবং মাহেশের রথের পরেই মায়াপুরের ইসকন এর রথের অবস্থানটা। সমস্ত দিক থেকেই মায়াপুরের রাতের আলাদা মর্যাদা এবং সমস্ত ক্ষেত্রেই আলাদা গুরুত্ব এবং ভক্তদের মধ্যে প্রবল উত্সাআহ উদ্দীপনা লক্ষ্যণীয়।তাই মায়াপুরে রথযাত্রা কে ঘিরে টানটান উত্তেজনা এবং প্রবল উত্সাসহ উদ্দীপনার সাথে রথ সাজানোর কাজ চলছে। প্রায় লক্ষাধিক লোকের সমাগম ঘটবে এই রথযাত্রায় জানিয়েছেন ইসকন কতৃপক্ষ। রাজাপুর থেকে রথ যাত্রার শুভসূচনা হবে শেষ হবে মায়াপুর ইসকন মন্দিরে। দীর্ঘ আট কিলোমিটার পথ পরিক্রমা করবে রথ। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির নিদর্শন মায়াপুর ইস্কনের রথ। ইসকনের রথে রশ্মিতে হাত লাগান হিন্দুদের সাথে মুসলিম ভাইবোনেরা ও।দীর্ঘ পথ অতিক্রম করে এই রথ। রথ যখন দীর্ঘ পথ অতিক্রম করে তখন ১৬ কুইন্টাল গজা বিতরণ করা হয় ভক্তদের মধ্যে যার আনুমানিক মূল্য ২ লক্ষ টাকার বেশি। তাই মায়াপুরে রথযাত্রা কে ঘিরে টানটান উত্তেজনা এবং প্রবল উত্সা্হ উদ্দীপনা বিরাজ করছে | আগামীকাল প্রথা মেনে মাসির বাড়ি যাবেন কোচবিহারের মদনমোহন | এছাড়া আগামী সাতদিন রথযাত্রকে ঘিরে জেলার গুঞ্জবাড়ি ডাঙরাই মন্দির চত্বরে বসবে মেলার আসর। এই সময় বহু দর্শনার্থীর আগমন হবে কোচবিহারে | রথযাত্রায় নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে ব্যাপক পুলিশি ব্যবস্থা করা হয়েছে । নির্ঘণ্ট মেনে আগামীকাল শনিবার বিকেল ৪.১০ মিনিটে কোচবিহারের মদনমোহনকে মাসির বাড়ী নিয়ে যাওয়া হবে | কোচবিহার বৈরাগীদিঘী চত্বরে রাজ পরিবারের কুলদেবতা মদনমহনের মন্দির থেকে মাসির বাড়ি শহরের গুঞ্জবাড়ি এলাকার ডাঙরাই মন্দিরে রওনা হবেন মদনমোহন। জগন্নাথ বলরাম কিম্বা সুভদ্রা নয়, এই সফরে তাঁর সঙ্গী হবেন রাজমাতা ও ডাঙরাই মন্দিরের দুই মদনমোহন। সেখানে ৭ দিন থেকে তারপর আবার উল্টো রথে ফিরে আসবেন। ওই কদিন ধরেই গুঞ্জবাড়ি ডাঙরাই মন্দির চত্বরে বসবে মেলার আসর। মন্দিরে কীর্তনের পাশাপাশি বিশেষ পূজা ও ভোগের আয়োজন করা হবে। ঐতিহাসিক রাজার শহর বর্ধমানে ঐতিহাসিক রথে আবার নতুন চমক। প্রথা মেনে একদিন আগেই টানা হল মেতেছে বর্ধমানের রাজবাড়ির ঐতিহাসিক রথ | বর্ধমান শহরে শুক্রবার বিকালে টান হল ২৩ ফুট লম্বা, ১৩ ফুট চওড়া রথ। এত বড় পিতলের রথ ঘিরে উন্মাদনা একটু বেশিই। রথযাত্রা উপলক্ষে পথশিশুদের হাতে নতুন রথ তুলে দিলেন উত্তর ২৪ পরগনা জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য সম্রাট তপাদার৷ শুক্রবার বারাকপুর গঙ্গোত্রীপাড়া জগন্নাথ মন্দির প্রাঙ্গণ থেকে পথশিশুদের হাতে ছোট ছোট রঙিন রথ তুলে দিলেন স্থানীয় এই তৃণমূল নেতা | পথশিশুদের রথ এবং জগন্নাথ দেবের মূর্তি উপহার দিয়ে সম্রাটবাবুর বার্তা, উৎসবে যেন সকলে শামিল হয়৷ কারও যেন মনে কোনও খেদ না থাকে৷ এদিকে, রথ এবং উল্টোরথে আগ্রহী যাত্রীদের কথা মাথায় রেখে ১৪ এবং ২২ জুলাই হাওড়া ডিভিশনে দু’জোড়া ট্রেন চালানো হবে। এগুলি চলবে হাওড়া এবং শ্রীরামপুরের মাহেশ ও গুপ্তিপাড়ার মধ্যে। উল্লেখ্য, প্রতি বছর বিভিন্ন অঞ্চলের বহু আগ্রহী ট্রেনে চড়ে মাহেশ ও গুপ্তিপাড়ার রথ দেখতে যান। ১৪ এবং ২২ জুলাই হাওড়া-শেওড়াফুলি-হাওড়া ইএমইউ বিশেষ ট্রেন হাওড়া ও শেওড়াফুলি থেকে ছাড়বে যথাক্রমে বিকেল ৪টে ৫ এবং ৪টে ৫৫ মিনিটে। ব্যান্ডেল-কাটোয়া-ব্যান্ডেল বিশেষ ট্রেন ব্যান্ডেল এবং কাটোয়া থেকে ছাড়বে বেলা ২টো এবং সন্ধ্যা ৬টা ৫ মিনিটে। শুক্রবার পূর্ব রেলের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়েছে। রথযাত্রা উপলক্ষে সারা রাজ্যে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা করা হয়েছে |–হিন্দুস্থান সমাচার / কাকলি
image